মঙ্গলবার, ১১ অগাস্ট ২০২০, ০৬:১৮ অপরাহ্ন

একনিষ্ঠ তাওবাই গুনাহ মাফের একটি অন্যতম উপায় 

নিউজ ডেস্ক
  • প্রকাশের সময়ঃ বৃহস্পতিবার, ৭ মে, ২০২০
  • ৫৩৫ জন দেখেছেন

মুহাম্মদ মিজানুর রহমান

তাওবা অর্থ ফিরে আসা। তাই তাওবা বলতে বোঝায় ব্যক্তি তার নিজ কৃতকর্মের জন্য অনুতপ্ত হয়ে পাপ পরিহারের মাধ্যমে আল্লাহর দিকে ফিরে আসা। বিশদভাবে বলতে গেলে জ্ঞান, আফসোস, বর্তমান ও ভবিষ্যতের গোনাহ ছেড়ে দিয়ে বিগত দিনসমূহের কর্মকাণ্ডের ক্ষতিপূরণ দেয়া সহ এই তিনটি বিষয়ের সমন্বয় সাধনই হলো তাওবা। স্বয়ং রাসূলে করিম (সা.) তাওবার সংজ্ঞায় বলেছেন, ‘লজ্জাই হলো তাওবা।’ আবার কেউ কেউ বলে থাকেন, ‘বিগত অপরাধসমূহের জন্য অনুশোচনার আগুনে পুড়ে বিগলিত হওয়ার নামই তাওবা।’ সহল ইবনে আব্দুল্লাহ তস্তরী (রা.) বলেন, ‘ নিন্দনীয় কর্মকাণ্ডকে প্রশংসনীয় কর্মকাণ্ডে রূপান্তরিত করার নামই হচ্ছে তাওবা।’ গোনাহ ত্যাগের দিকে লক্ষ করে আবার অনেকে বলেছেন, ‘জুলুমের পোশাক থেকে মুক্ত হয়ে সরলতা ও হৃদ্যতার চাদর বিছানোই হলো তাওবা। রাসূলে করিম (সা.) আরো বলেছেন, ‘কৃতপাপের জন্য অনুতপ্ত ও লজ্জিত হওয়ার নামই হচ্ছে তাওবা।’

তাওবা করা প্রতিটি মানুষের জন্য ফরজ। এমন কোনো মানুষ নেই যার সম্পর্কে বলা যায়, তার তাওবার কোনো প্রয়োজন নেই। কারণ, প্রত্যেক মানুষেরই হাত, পা, চোখ, কান সহ বিভিন্ন অঙ্গ-প্রতঙ্গ কোনো-না-কোনো পাপের সাথে জড়িত। কিছু মানুষ এ ধরণের পাপ থেকে বেঁচে থাকলেও মনে মনে পাপের কল্পনা থেকে বাঁচতে পারে না। যদি কারো অন্তরে পাপের কল্পনা থাকে তাহলে সে অন্তর শয়তানের কুমন্ত্রণা থেকে মুক্ত হয় না। আর শয়তানের কুমন্ত্রণা থেকে মুক্ত না-হলে আল্লাহর ইবাদতে অলসতা দেখা দেয়। একাগ্রতার সৃষ্টি হয় না। তবে অন্তরের এই অবস্থা মানুষ ভেদে নানারকম হতে পারে। তাই এই অবস্থা দূর করতে হলে অবশ্যই তাওবা করতে হবে। রাসূলে করিম (সা.) বলেছেন, ‘আমার অন্তরে মরীচিকা পড়ে যায়। এমনকি, রাত-দিন সত্তর বার আমি আল্লাহর নিকট ক্ষমা চাই।’ (ইহইয়া উ’লূমুদ্দীন)

অবশ্য রাসূলে কারিম (সা.) এর তাওবার বিষয়টি ভিন্ন। নবি-রাসূলগণ মাসুম। তাদের নিষ্পাপ হওয়ার ব্যাপারে স্বয়ং আল্লাহ তায়ালার ঘোষণা রয়েছে। তাই তাঁদের তাওবার মধ্য দিয়ে আল্লাহ তায়ালা তাঁদের মর্যাদাকে আরো বাড়িয়ে দেন।

অনেক সময় মানুষ অপরাধ করতে করতে এমন একটা পর্যায় গিয়ে পৌঁছায় যখন সে মনে করে তার এ পাপের কোনো ক্ষমা নেই। অথচ আল্লাহ রাব্বুল আলামিন কত দয়ালু ও মেহেরবান! তিনি মুমিনদের লক্ষ করে পবিত্র কুরআনে বলেছেন, ‘হে মুমিনগণ, তোমরা সকলেই আল্লাহর নিকট তাওবা করো, যাতে তোমরা সফলকাম হতে পারো।’ (সূরা নূর, ২৪ : ৩১)

প্রিয় নবি (সা.) আরো বলেছেন,‘পশ্চিম দিক থেকে সূর্য উদিত হওয়ার পূর্ব পর্যন্ত এই সময়ের মধ্যে যে ব্যক্তি তার গুনাহের জন্য তাওবা করবে, তার তাওবা আল্লাহ তায়ালা কবুল করবেন।’ (মিশকাত, পৃ. ২০৩)

একনিষ্টভাবে যদি কেউ তাওবা করে আল্লাহ তার তাওবা কবুল কবরেন এবং তার জীবনের সব গুনাহও মাফ করে দেবেন। এক হাদিসে নবি করিম (সা.) বলেছেন, ‘তুমি যদি এত অধিক পরিমাণ পাপ কাজ করে থাকো, যা আসমান সম উঁচুও হয়ে যায়, তবুও অনুতাপের সাথে তাওবা করো, তোমার তাওবা কবুল করা হবে, তোমাকে ফিরিয়ে দেয়া হবে না।’

অন্য এক হাদিসে নবি করিম (সা.) বলেছেন, ‘শয়তান অভিশপ্ত হওয়ার পর সে আল্লাহ দরবারে বলেছিল, হে আল্লাহ, তোমার ইযযতের কসম! মানুষের দেহ থেকে যতক্ষণ না তার আত্মা বের হয়, ততক্ষণ আমি সেখানে অবস্থান করব। তখন আল্লাহও তার জবাবে বলেছিলেন, ‘আমিও আমার ইযযতের শপথ করে বলছি, যতক্ষণ মানুষের দেহে তার আত্মা থাকবে ততক্ষণ আমি তার তাওবা কবুল করবো, যদি সে তাওবা করে।’

যারা গুনাহর বোঝা মাথায় নিয়ে আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ হয়ে পড়েছে আল্লাহ তাদের নিরাশ করছেন না। তিনি কালামে পাকে ঘোষণা করেছেন, ‘হে ইমানদারগণ, তোমরা আল্লাহর কাছে খালিস অন্তরে তাওবা করো।’ তিনি আরো বলেছেন,‘ আল্লাহ তওবাকারীকে ভালোবাসেন আর ভালোবাসেন পবিত্র ব্যক্তিগণকে।’

তাওবারও জন্য একটি নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত মানুষকে অবকাশ দেয়া হয়। মৃত্যু যখন গলার কাছে এসে হাজির হবে এ সময়কার তাওবা ব্যক্তির কোনো কাজে আসবে না। এজন্য পবিত্র কোরআনে বলা হয়েছে, ‘তাওবা তাদের জন্য নয়, যারা জীবনভর খারাপ কাজ করে আর যখন তাদের কারো মৃত্যু উপস্থিত হয় তখন বলে, আমি এখন তাওবা করছি। আর তাদের জন্যও তাওবা নয়, যারা কাফির অবস্থায় মারা যায়। এরা তারা, যাদের জন্য আমি যন্ত্রণাদায়ক শাস্তির ব্যবস্থা করেছি।’

নবি করিম (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি পাপ করার পর তাওবা করে, তাওবার কারণে সে এমনভাবে পাপমুক্ত  হয়ে যায় যেন তার কোনো পাপই নেই।’ (মিশকাত, পৃ. ২০৬)

এমন কোনো মানুষ নেই যে পাপ করে না। কিন্তু সৌভাগ্যবান ঐ সকল মানুষ যারা পাপ করার পর নিজেদের ভুল বুঝতে পেরে তাওবা করে পাপের পথ থেকে ফিরে আসে। আর নিজেদের আত্মশুদ্ধির জন্য বারবার তাওবা-ইস্তেগফার করে। মহানবি (সা.) বলেন, ‘আদম সন্তানেরা পাপ করে থাকে আর ঐ সমস্ত পাপীদের মধ্যে তারাই অধিক ভালো যারা বেশি বেশি তাওবা করে।’ (তিরমিযী ও ইবনে মাজাহ, সূত্র : মিশকাত, পৃ. ২০৪)

শয়তানের প্ররোচনার নফসের তাগিদে পড়ে মানুষ পথভ্রষ্ট হয়ে গুনাহের কাজ করে। আবার একসময় বান্দা যখন তাদের নিজের ভুল বুঝতে পেরে অনুতপ্ত হয়ে আল্লাহর কাছে গুনাহ মাফ চায়, সেই মুহূর্তে আল্লাহ তায়ালা ঐ ফরিয়াদী ব্যক্তির চাইতেও অধিক খুশি হন।

আল্লাহর হক আল্লাহ ক্ষমা করবেন; কিন্তু বান্দার হক বান্দা ক্ষমা না-করলে আল্লাহ ক্ষমা করবেন না। যদিও চাইলে তিনি ক্ষমা করতে পারেন। তাই তাওবা ইস্তিগফারের সঙ্গে সঙ্গে বান্দার হক পরিশোধ করা বান্দার জন্য একান্ত প্রয়োজন।

লেখক : সাহিত্যিক ও গবেষক

তথ্যসূত্র :

১.       আল-কুরআন

২.      দৈনন্দিন জীবনে ইসলাম

৩.      ইহইয়া উ’লূমুদ্দীন

৪.      মিশকাত শরিফ

৫.      তিরমিযী ও ইবনে মাজাহ

 

 

 

 

 

 

Please Share This Post in Your Social Media

আরও সংবাদ পড়ুন

বিশ্বজুড়ে করোনাভাইরাস

বাংলাদেশে

আক্রান্ত
১৭৮,৪৪৩
সুস্থ
৮৬,৪০৬
মৃত্যু
২,২৭৫

বিশ্বে

আক্রান্ত
২০,২৮৩,১২০
সুস্থ
১৩,২০৭,৪৮০
মৃত্যু
৭৩৯,৭৯৫

বাংলাদেশে কোরোনা

মোট

১৭৮,৪৪৩

জন
নতুন

২,৯৪৯

জন
মৃত

২,২৭৫

জন
সুস্থ

৮৬,৪০৬

জন
© All rights reserved © 2019 ongkur24.com
Design & Developed By: NCB IT
112233