মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২০, ০৭:২৬ পূর্বাহ্ন

আসন্ন ঈদ-উল-আযহা : আবারও সংক্রমণের ঝুঁকি

আশিক মিজান
  • প্রকাশের সময়ঃ শুক্রবার, ১০ জুলাই, ২০২০
  • ৫৬০ জন দেখেছেন

মুহাম্মদ মিজানুর রহমান

করোনাভাইরাস যে হারে বাংলাদেশে ছড়িয়ে পড়ছে তাতে এখনো নিশ্চিত করে বলা যায় না, আসলে আমরা কোন দিকে ধাবিত হচ্ছি। তবে এই ভাইরাস নিয়ে যে বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা আমাদের সামনে রয়েছে তাতে ধারণা করা যায়, আমরা এক অনিশ্চিত গন্তব্যের দিকে এগিয়ে চলেছি। নানা সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও আমরা যে অবস্থানে এখনো রয়েছি, যদি এ ভাইরাসের সংক্রমণের লাগাম জনসচেতনতা ও আইনি কঠোরতা মাধ্যমে টেনে ধরতে না-পারি তাহলে হয়তো এই ক্রমবর্ধমান অবনতির চূড়ান্ত পরিণতি অত্যন্ত ভয়াবহ হতে পারে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাসহ বিভিন্ন পরিসংখ্যান থেকে তেমনটিই উঠে আসছে।
সংক্রমণের হার বিবেচনায় সরকার আক্রান্ত এলাকাগুলোকে তিনটি জোনে বিভক্ত করেছে। এর মধ্যে বেশি ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোকে রেড জোন হিসেবে ঘোষণা করেছে। যে সমস্ত এলাকাগুলোতে এখনো সংক্রমণের হার উল্লেখযোগ্য নয়, সেই এলাকাগুলোতে যাতে সংক্রমণের প্রাদুর্ভার বেড়ে যেতে না-পারে সেভাবেই পদক্ষেপ নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে সরকার। তবুও ক্রমেই বেড়ে চলেছে আক্রান্তের সংখ্যা। দিন দিন স্বাস্থ্যবিধি অমান্য করার প্রবণতাও বেড়ে চলেছে। অন্যদিকে বেড়ে চলেছে সাধারণ মানুষের উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা ।
সাধারণ মানুষের জীবন-জীবিকার চাকা সচল রাখতে স্বাস্থ্যবিধি মেনে কাজ করার কথা বলা হলেও বাস্তব চিত্র এর উল্টো। রাস্তা-ঘাটে শ্রমজীবী মানুষের মাঝে স্বাস্থ্যবিধির বালাই নেই। অপরদিকে দূরপাল্লার কিছু যানবাহন ব্যতীত অধিকাংশ যানবাহন ও আভ্যন্তরীণ যোগাযোগ ব্যবস্থায়ও চরমভাবে লংঘিত হচ্ছে স্বাস্থ্যবিধি।
ঠিক এমনই একটি পরিস্থিতির মধ্যে সামনে আসছে ঈদ-উল-আযহা। কর্মের তাগিদে শহরমুখী মানুষগুলোর অধিকাংশই ঈদের ছুটিতে ফিরে যায় গ্রামে। ঈদের আনন্দকে ভাগাভাগি করে নেয় প্রিয় মানুষগুলোর সাথে। করোনায় সৃষ্ট একটি ভিন্ন পরিস্থিতির কারণে গেল ঈদে কর্মস্থল ত্যাগের ব্যাপারে নানা সতর্কতা সত্ত্বেও সরকারি ঘোষণা কোনো কাজে আসেনি। অন্তত এই ঈদে জাতীয় স্বার্থে হলেও সরকারের উচিত কঠোর অবস্থানে থাকা। কারখানা শ্রমিকদের নিয়ে গত ঈদে বিজেএমই যে নাটকীয়তার অবতারণা করেছে তা সত্যিই অভাবিত। একটি দুর্যোপূর্ণ সময়ে এমনটি কোনোভাবেই কাম্য ছিল না। যা বাংলাদেশকে এখন চরম ঝুঁকির দিকে নিয়ে গেছে।
অন্যান্য দেশের ক্ষেত্রে পিকে যেতে যে সময় লেগেছে আমাদের ক্ষেত্রে সে হিসাব আর মিলছে না। সুতরাং আসন্ন ঈদকে কেন্দ্র করে পুনরায় যেন তারই পুনরাবৃত্তি না-ঘটে সেটিই এখন বিবেচ্য বিষয়। ঈদের গরুর হাটগুলো কীভাবে পরিচালিত হবে তার একটি সুনির্দিষ্ট নীতিমালা অবশ্যই প্রণয়ন করতে হবে। কেবল স্থানীয় প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদের উপর বিষয়টি ছেড়ে দিলে তা মোটেই বাস্তবায়নযোগ্য হবে বলে আশা করা যায় না। তবে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীসহ স্থানীয় প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদের সম্পৃক্ততায় কাজটি করলে অবশ্যই সুফল বয়ে আনবে। এক্ষেত্রে সংক্রণের ঝুঁকি বিবেচনায় এলাকাভিত্তিক হাট পরিকল্পনার কথাও ভাবা যেতে পারে। সর্বোপরি প্রতিটি গরুর হাটে যদি কোনো ক্রেতা বা বিক্রেতা স্বাস্থ্যবিধি লংঘন করেন তাকে অবশ্যই আইনের আওতায় আনতে হবে। এজন্য পারতপক্ষে দিন বিবেচনায় প্রতিটি হাটে অবশ্যই আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের উপস্থিতি নিশ্চিত করতে হবে। বাজারগুলোতেও একমুখী চলাচল ও স্বাস্থ্য সুরক্ষার কথা মাথায় রেখে সেভাবেই পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে।
রেড জোন হিসেবে ইতোমধ্যে চিহ্নিত হয়েছে রাজধানী শহর ঢাকাসহ অন্যান্য বিভাগীয় শহরের অতিরিক্ত সংক্রমিত ও জনবহুল বেশ কিছু এলাকা। এছাড়াও আরো কিছু জেলা শহরের বেশ কিছু এলাকাকে সংক্রমণের হার বিবেচনায় রেড জোন ঘোষণা করা হয়েছে। সাড়ে সতেরো কোটি জনগণের দেশ এই বাংলাদেশের। যার একটি বিশাল অংশ এখনো সংক্রমণের বাইরে রয়ে গেছে। আর এর অধিকাংশই বিভিন্ন মফস্বল শহর বা গ্রামের বাসিন্দা। এখনো যদি যথাযথ পদক্ষেপ নেয়া হয় তাহলে এই মানুষগুলোকে নিরাপদে রাখা সম্ভব।
গ্রামের এই অল্প শিক্ষিত বা কম শিক্ষিত মানুষগুলোকে অতিসত্ত্বর পরিপূর্ণ স্বাস্থ্যবিধির ধারণা দিতে হবে। ইউনিয়ন পরিষদের ক্ষেত্রে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি যেমন ইউপি চেয়ারম্যান সহ প্রতিটি ওয়ার্ডের ওয়ার্ড মেম্বর, মহিলা প্রতিনিধি সহ গ্রাম পুলিশ ও আনসার বাহিনীর প্রতিটি সদস্য ও তাদের নিজস্ব কর্মী বাহিনীকে জনসচেতনতা কাজে ব্যবহার করতে পারেন ইউপি চেয়ারম্যান। কেউ আইন অমান্য করলে তাকে অবশ্য আইনের আওতায় নিয়ে আসতে হবে। অনুরূপভাবে জেলা, উপজেলা ও পৌরসভা পর্যায়ে উপজেলা চেয়ারম্যান, জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও পৌর মেয়র স্থানীয় মাঠ প্রশাসনে দেখভালের কাজে নিয়োজিত থাকবেন।
এছাড়াও পাড়া মহল্লার মসজিদ ও মন্দির ভিত্তিক জনসচেতনতা বাড়ানোর জন্য ইসলামিক ফাউন্ডেশন ও মন্দির পরিচালনাকারী সংস্থাকে সম্পৃক্ততার মাধ্যমে পাড়া-মহল্লার মসজিদ ও মন্দিরগুলোতে জনগণকে সচেতন করতে হবে। সেখানেও স্বাস্থ্যবিধির বিষয়টি পুরোপুরি মানতে হবে। মনে রাখতে হবে, আমাদের জনসংখ্যার একটি বিশাল অংশ বাস করে গ্রামে। আমরা যদি গ্রামগুলোকে বাঁচাতে পারি, তাহলে দেশের এক বিশাল অংশকে সংক্রমণের বাইরে রাখতে পারব। সেইসাথে প্রতিটি পরিবার থেকে যারা অন্যত্র বসবাস করেন তাদেরও ভাবতে হবে আপনজনের কথা। কোনোভাবেই একজন আরেকজনকে বিপদের মুখে ঠেলে দেয়া যাবে না। শহরের চেয়ে গ্রাম পর্যায়ে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা অত্যন্ত সহজ। কিন্তু গ্রামের মানুষের মাঝে স্বাস্থ্যবিধি ভাঙ্গার প্রবণতা অনেক বেশি। তারা বিষয়টিকে তুচ্ছ-তাচ্ছিল্যের সাথে দেখেন।
রেড জোনগুলোর বিষয় আমাদের এখুনি ভাবতে হবে। আসন্ন ঈদকে কেন্দ্র করে তারা যেন গ্রামের বাড়িতে ছুটে যেতে না-পারেন সে বিষয়ে সরকারকে অবশ্যই কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে। আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সাধারণ ছুটিকে এমনভাবে ঘোষণা করতে হবে, যাতে বাড়ি ফেরার সুযোগটি আর না-থাকে। অথবা ভিন্ন পরিস্থিতি মাথায় রেখে সবধরণের সাধারণ ছুটি বাতিল করতে হবে। নতুবা জোনভিত্তিক এই বিভাজনের কোনো উপকারিতাই ভোগ করা যাবে না। ফলে বিভিন্ন জোনের মানুষের সংমিশ্রণে নিরাপদ জোনে বসবাসকারী মানুষগুলোও সংক্রমণের ঝুঁকিতে পড়বেন। অতীতের মতো আবারও তাহলে অনুতাপ করা ছাড়া আর কোনো উপায় থাকবে না।

লেখক : সাহিত্যিক ও গবেষক

Please Share This Post in Your Social Media

আরও সংবাদ পড়ুন

বিশ্বজুড়ে করোনাভাইরাস

বাংলাদেশে

আক্রান্ত
১৭৮,৪৪৩
সুস্থ
৮৬,৪০৬
মৃত্যু
২,২৭৫

বিশ্বে

আক্রান্ত
৪৩,৭৬৯,৭৭১
সুস্থ
৩২,১৭২,৯৯১
মৃত্যু
১,১৬৪,২২৯

বাংলাদেশে কোরোনা

মোট

১৭৮,৪৪৩

জন
নতুন

২,৯৪৯

জন
মৃত

২,২৭৫

জন
সুস্থ

৮৬,৪০৬

জন
© All rights reserved © 2019 ongkur24.com
Design & Developed By: NCB IT
112233