শনিবার, ১৫ অগাস্ট ২০২০, ১১:০৪ পূর্বাহ্ন

ঈদ যাত্রায় মন্দা, পরিবহণ ব্যবসায়ীদের মাথায় হাত!

নিউজ ডেস্ক
  • প্রকাশের সময়ঃ মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই, ২০২০
  • ৩৮ জন দেখেছেন
ছবি : ডয়চে ভেলে

পোশাক কর্মীদের এবার কোরবানির ঈদে গ্রামের বাড়ি যেতে না করা হয়েছে৷ সরকারি কর্মচারীদেরও তাই৷ ব্যাংক কর্মচারীদের একাংশও যেতে পারবেন না৷

স্বাভাবিক পরিস্থিতিতে কোরবানির ঈদে ঢাকা অনেকটাই ফাঁকা হয়ে যায়৷ ৭০-৮০ লাখ মানুষ শহর ছেড়ে গ্রামে পাড়ি জমান৷ গত রোজার ঈদে গণপরিবহণ বন্ধ থাকলেও অনেক মানুষ নানা বাধা উপেক্ষা করে ঢাকা ছেড়েছেন৷ কিন্তু এবার গণপরিহন চললেও সেই পরিস্থিতি হবে না বলেই মনে করছেন অনেকে৷
মানুষের আগ্রহ কম
মন্ত্রিপরিষদের সবশেষ বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সরকারি কর্মচারিরা ঈদের ছুটি পাবেন কিন্তু তারা কর্মস্থল ছাড়তে পারবেন না৷ গত ঈদেও একই ধরনের সিদ্ধান্ত ছিলো৷ পোশাক কর্মীরাও ছুটি পাচ্ছেন৷ কিন্তু কেউই তাদের গ্রামের বাড়ি যেতে পারবেন না বা ঢাকা ছাড়তে পারবেন না বলে জানিয়ে দেয়া হয়েছে৷ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেছেন, কোনো শিল্প কারখানার শ্রমিকরাই কর্মস্থল ছাড়তে পারবেন না৷ সেই সঙ্গে ঈদের ছুটি তিন দিনের বেশি বাড়ানো হচ্ছে না৷

ব্যাংকে যারা কাজ করেন তাদের মধ্যে ব্রাঞ্চ ম্যনেজার এবং তার উপরের কর্মকর্তারাও কর্মস্থল ছাড়তে পারবেন না ঈদের ছুটিতে৷ তবে অন্য কর্মচারীরা নিষেধ নেই৷

মহামারির এই সময়ে কাজ হারিয়ে এবং বাসা ভাড়া দিতে না পেরে অনেকেই এরই মধ্যে গ্রামে চলে গেছেন। গত রোজার ঈদে যারা গ্রামে গেছেন পোশাক কর্মী ছাড়া তাদের বড় একটি অংশ অর্থনৈতিক কারণে আর ফিরে আসেননি৷ ফলে ঢাকায় এমনিতেই লোকজন কম৷ এবার কোরবানির ঈদে গ্রামের বাইরে যেতে সাধারণ মানুষের আগ্রহও কম৷

ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী, বেসরকারি চাকরিজীবী ও সাধারণ শ্রমজীবী মানুষের সাথে কথা বলে এমনটাই ধারণা পাওয়া যাচ্ছে৷ কলাবাগান এলাকার রিকশাচালক আব্দুল হাকিম বলেন, ‘‘আমি একাই ঢাকায় আছি৷ স্ত্রী এবং দুই সন্তানকে দুই মাস আগেই গ্রামের বাড়ি বরিশালের বাবুগঞ্জে পাঠিয়ে দিয়েছি৷ আয় অনেক কমে গেছে৷ তাই আর কোরবানির ঈদে বাড়ি যাব না৷’’

দোকানদার মিন্টু মিয়া প্রতিবছর তার গ্রামের বড়ি বিক্রমপুরে সপরিবারে ঈদ উদযাপনে যান। কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘‘করোনা তো আছেই, তার ওপর এবার কোরবানি দেয়া হবে না৷ ব্যবসায় মন্দা৷ তাই আর গ্রামে যাচ্ছি না৷’’

জাতীয় গার্মেন্টস শ্রমিক লীগের সভাপতি সিরাজুল ইসলাম রনি বলেন, ‘‘পোশাক শ্রমিকদের একটি অংশ কাজ হারিয়ে আগেই গ্রামে চলে গেছে৷ করোনা আর বন্যায় অনেকের পরিবারই বিপর্যস্ত৷ ফলে তারা আর্থিক সংকটে আছেন৷ তবুও কেউ কেউ গ্রামের বাড়ি যেত৷ কিন্তু এখনতো সরকারই মানা করেছে৷’’

এই শ্রমিক নেতা বলেন, ‘‘কারো যাওয়ার আগ্রহ থাকলেও তিন দিনে ফিরে আসতে না পারলে যদি চাকরি যায় এই ভয়ও আছে৷ আমরাও করোনার কারণে তাদের যেতে নিরুৎসাহিত করছি৷’’

যাত্রী মন্দা
রোজার ঈদের পর স্বাস্থ্যবিধি মানা সাপেক্ষে সব ধরনের গণপরিবহণ চালু হলেও ঈদে যাত্রী তেমন না হওয়ার আশঙ্কা করছেন পরিবহণ ব্যবসায়ীরা৷ তাদের মতে স্বাভাবিক সময়ে তারা ঈদে যে যাত্রী পেতেন তার ৩০ ভাগও পাবেন কিনা সন্দেহ৷ তাই বাস ও লঞ্চে এবার বাড়তি যানবাহন বা অতিরিক্ত ট্রিপের কোনো পরিকল্পনা নাই তাদের৷

বাংলাদেশে দূর পাল্লায় এক লাখ বাস চলাচল করে স্বাভাবিক সময়ে৷ এখন শতকরা ৩০ ভাগ বাস চলাচল করছে৷ বাকি বাসগুলো যাত্রীর অভাবে চলাচল করছে না বলে জানান পরিবহণ মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক খন্দকার এনায়েত উল্যাহ৷ তিনি বলেন, ‘‘ঈদের আগে ও পরে সাত দিনে স্বাভাবিক সময়ে আমরা ৭০-৮০ লাখ যাত্রী পেতাম৷ কিন্তু এবার ২০ লাখ পাব কিনা সন্দেহ৷’’

সাধারণ ঈদের আগে এই সময়ে অগ্রিম টিকিটাও সবই বিক্রি হয়ে যেত৷ শুধু নিয়মের কারণে কিছু টিকিট পরে বিক্রি করা হতো বলে জানান তিনি৷

এই সময়ে লঞ্চের কেবিনও সব আগাম বুকিং হয়ে যেত৷ কিন্তু এবার কোনো আগাম বুকিং নেই বলে জানান লঞ্চ মালিক সমিতির সভাপতি মাহবুব উদ্দিন আহমেদ৷ তিনি বলেন, ‘‘ঢাকা থেকে সারাদেশে ছয়শ’ লঞ্চ চলাচল করে ৷ এখন চলছে দুইশ’৷ ঈদের আগে হয়তো আরো একশ’ লঞ্চ চলবে৷’’

ঈদের আগে ও পরে কয়েকদিনে স্বাভাবিক সময় কমপক্ষে পাঁচ লাখ যাত্রী পেত লঞ্চগুলো৷ এবার তার তিন ভাগের একভাগও পাওয়া যাবে কিনা তা নিয়ে সংশয়ে আছেন লঞ্চ মালিকেরা৷

এদিকে ট্রেনের অবস্থা একটু ভালো৷ তবে যাত্রী অর্ধেকে নেমে এসেছে৷ আগামীকাল (২৯ জুলাই) থেকে ট্রেনের আগাম টিকিট বিক্রি শুরু হবে৷ যদি প্রয়োজন হয় তাহলে চারটি স্পেশাল ট্রেনের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে৷

সূত্র : ডয়চে ভেলে

Please Share This Post in Your Social Media

আরও সংবাদ পড়ুন

বিশ্বজুড়ে করোনাভাইরাস

বাংলাদেশে

আক্রান্ত
১৭৮,৪৪৩
সুস্থ
৮৬,৪০৬
মৃত্যু
২,২৭৫

বিশ্বে

আক্রান্ত
২১,৩৫৪,৭৪২
সুস্থ
১৪,১৪৮,০৪৪
মৃত্যু
৭৬৩,৩৫৭

বাংলাদেশে কোরোনা

মোট

১৭৮,৪৪৩

জন
নতুন

২,৯৪৯

জন
মৃত

২,২৭৫

জন
সুস্থ

৮৬,৪০৬

জন
© All rights reserved © 2019 ongkur24.com
Design & Developed By: NCB IT
112233