সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০৪:৩৭ পূর্বাহ্ন

‘ধর্ষক’কে ছেড়ে দিলেন কাউন্সিলর, গৃহবধূর আত্মহত্যা

নিউজ ডেস্ক
  • প্রকাশের সময়ঃ রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২০
  • ১৯ জন দেখেছেন
ছবি : ডয়চে ভেলে

‘ধর্ষক’কে হাতে নাতে আটক করেছিলেন এলাকাবাসী৷ নিয়ে গিয়েছিলেন ওয়ার্ড কাউন্সিলরের কাছে৷ কিন্তু নিজের ভাতিজা হওয়ায় সেই ধর্ষককে ছেড়ে দেন কাউন্সিলর৷

উল্টো বকাঝকা করেন ধর্ষিতা গৃহবধূকেই৷ ক্ষোভে দুঃখে আত্মহত্যা করেন দুই সন্তানের জননী গৃহবধু সখিনা বেগম (৩৫)৷

ঘটনাটি রাজশাহীর গোদাগাড়ি উপজেলার কাঁকনহাট পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ড এলাকার৷ এ ঘটনায় কাউন্সিলর লুৎফর রহমান মিশুসহ তিনজন গ্রেফতার করেছে পুলিশ৷ তবে অভিযুক্ত ‘ধর্ষক’ মফিজুল ইসলাম পলাতক৷

গৃহবধূর স্বামী কামাল হোসেন ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘‘আমি একটি পোশাক কারখানার কাভার্ড ভ্যানের হেলপার হিসেবে কাজ করি৷ ঘটনার দিন অর্থাৎ গত বুধবার আমি চট্টগ্রাম ছিলাম৷ রাত সাড়ে ৯টার দিকে স্ত্রীর সঙ্গে ফোনে কথাও হয় আমার৷ রাত পৌনে ২টার দিকে খবর পাই এলাকার মফিজুল ইসলাম ঘরে ঢুকে আমার স্ত্রীকে ধর্ষণ করেছে। স্থানীয় লোকজন তাকে ধরে কাউন্সিলরের কাছে নিয়ে গেছে৷ আর কাউন্সিলর আমার স্ত্রীকে বকাঝকা করে মফিজুলকে ছেড়ে দিয়েছেন৷ আমার স্ত্রী যদি দোষীও হয় তাহলে কেন আমার পরিবারকে জানালো না কাউন্সিলর ৷ তার কারণেই আমার স্ত্রী আত্মহত্যা করেছে৷’’

‘আমার দুই সন্তান মা-হারা হয়ে গেল’

স্থানীয়রা বলছেন, চাকরির কারণে অধিকাংশ সময় বাড়ির বাইরে থাকেন কামাল হোসেন৷ সাড়ে ১৪ বছর বয়সী মেয়ে আর ৮ বছর বয়সী ছেলেকে নিয়ে বাড়িতে থাকেন সখিনা৷ গত বুধবার রাতে ধর্ষণের ঘটনার পর বৃহস্পতিবার আত্মহত্যা করেন তিনি৷

রাতে মফিজুল যখন সখিনার ঘরে ঢোকেন তখন চোর চোর বলে চিৎকার করেন তিনি৷ তাঁর চিৎকারে এগিয়ে আসেন প্রতিবেশী আকবর আলী ও মেরাজুল ইসলামসহ স্থানীয়রা৷ তারা মজিফুলকে হাতে নাতে আটক করে  কাউন্সিলরের বাসায় নিয়ে যান৷সাথে ছিলেন সখিনাও৷ সেখানেই সখিনাকে বকাঝকা করেন ওয়ার্ড কাউন্সিলর, জানান এলাকাবাসী৷

সখিনার স্বামী কামাল হোসেন বলেন ‘‘ধর্ষক মফিজুল ওয়ার্ড কাউন্সিলর মিশুর আপন চাচাতো ভাইয়ের ছেলে৷ এ কারণে তিনি তাকে ছেড়ে দিয়েছেন৷’’

তিনি বলেন ‘‘এখন যদি আমাকে ওরা ৫ কোটি টাকাও দিতে চায় আমি নেব না৷ আমি ১৯ বছর ধরে সংসার করছি৷ আমার দুই সন্তান মা-হারা হয়ে গেল৷ টাকা দিয়ে তো আমি স্ত্রীকে ফিরে পাব না৷’’

‘ধর্ষককে গ্রেফতারের অভিযান অব্যহত থাকবে’

গোদাগাড়ি থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) খায়রুল ইসলাম ডয়চে ভেলেকে বলেন ‘‘আমরা প্রাথমিক তদন্তে নিশ্চিত হয়েছি, ধর্ষককে ছেড়ে দেওয়ায় ক্ষোভে দুঃখে গৃহবধূ আত্মহত্যা করেছেন৷ আমরা ঘটনাটি জানার পরপরই কাউন্সিলরসহ  আকবর আলী ও মেরাজুল ইসলাম নামে আরো দুজনকে ৫৪ ধারায় গ্রেফতার করে কারাগারে পাঠিয়েছি৷ নিহতের বাবা মুন্তাজ আলী বাদি হয়ে ধর্ষণ ও আত্মহত্যার প্ররোচনার মামলা করেছেন৷ এই মামলায় ধর্ষকসহ চারজনকে আসামী করা হয়েছে৷ আটক তিনজনকে এই মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে দ্রতই রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন করা হবে৷ আর ধর্ষককে গ্রেফতারের অভিযান অব্যহত থাকবে৷’’

নারী নেত্রী খুশি কবীর ডয়চে ভেলেকে বলেন ‘‘ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক৷ একজন নারী কখন আত্মহত্যা করে ? যখন সে মনে করে, এই পৃথিবীতে তার আর বেঁচে থাকার অধিকার নেই৷ কারও কাছে সে আর বিচার পাবে না৷ এখনও আমাদের সমাজে নারীকে পণ্য মনে করা হয়৷ ফলে নারীরা নিজেদের চরম অনিরাপদ মনে করে৷ আমি এই ঘটনায় কাউন্সিলর ও ধর্ষকসহ সংশ্লিষ্টদের কঠোর শাস্তির দাবি জানাই৷’’

সূত্র : ডয়চে ভেলে

Please Share This Post in Your Social Media

আরও সংবাদ পড়ুন

বিশ্বজুড়ে করোনাভাইরাস

বাংলাদেশে

আক্রান্ত
১৭৮,৪৪৩
সুস্থ
৮৬,৪০৬
মৃত্যু
২,২৭৫

বিশ্বে

আক্রান্ত
৩৩,২৮১,২১৯
সুস্থ
২৪,৫৯৪,৯২১
মৃত্যু
১,০০১,৭৫৫

বাংলাদেশে কোরোনা

মোট

১৭৮,৪৪৩

জন
নতুন

২,৯৪৯

জন
মৃত

২,২৭৫

জন
সুস্থ

৮৬,৪০৬

জন
© All rights reserved © 2019 ongkur24.com
Design & Developed By: NCB IT
112233